ওয়েবসাইট বানাতে কি কি প্রয়োজন? একটি সুন্দর ওয়েবসাইট বানানোর উপায় (পর্ব ১)

Website bangla

 প্রিয় বন্ধুরা সকলে সালাম নেবেন!! বিবিএন বাংলার পক্ষ আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক সুভেচ্ছা! আপনি হয়তো চাচ্ছেন আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটও ওয়েবাসাইট বানাতে, অথবা আপনার নিজের নামে একটা ওয়েবসাইট থাকলে কেমন হয় কিংবা আপনি চাচ্ছেন ওয়েবসাইট বানিয়ে টাকা ইনকাম করতে!! কিন্তু আপনি তো জানেন ই না একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে!! তো সে জন্যই আমরা আজ আপনাদের সাথে আছি সব কিছু বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। আমরা পর্ব আকারে শেখাবো কিভাব একটি ওয়েবসাইট বানাবেন।কত টাকা লাগবে একটি ওয়েবসাইট বানাতে।ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে এবং কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে টাকা উপার্জন করা যায়। প্রথম প্রতম পর্বে আপনাদের স্বাগতম। তো চলুন শুরু করা যাক


ওয়েবসাইট এর জন্য কি কি প্রয়োজন 

   ** ডোমেইন 

   ** থীম

   ** হোস্টিং

ওয়েবসাইট বানাতে অনেক কিছুই প্রয়োজন তবে এই তিনটা অর্থাৎ ডোমেইন থীম ও হোস্টিং ছাড়া ওয়েবসাইট সম্ভব ই না। তাই এগুলো অবশ্যই প্রয়োজন।


ওয়েবসাইট তৈরির জন্য প্রথমে কি করতে হবে

ওয়েবসাইট যদি আপনি তৈরি করতে চান তাহলে মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে ওয়েবসাইট কোথা থেকে বানাবো কিভাবে শুরু করবো, হ্যা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে প্রথমে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট এর সহায়তা নিতে হবে। তাছাড়া আপনি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন না।বর্তমানে অসংখ্য ওয়েবসাইট প্রভাইডার রয়েছে যেখান থেকে আপনি ওয়েবসাইট বানাতে পারেন তবে এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ব্লগার ও ওয়ার্ডপ্রেস।  এই দুইটা সাইটের মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন খুব সহজে। তবে এখানে একটা কথা মনে রাখতে হবে আপনি যদি ফ্রিতে ওয়েবসাইট বানিয়ে ইনকাম করতে চান তাহলে ব্লগার ব্যাবহার করতে হবে,  নিচে সে সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাক।


ব্লগার ও ওয়াডপ্রেস কি

প্রথমে যদি ব্লগারের সংজ্ঞা দিতে যাই তাহলে যেটা আসে তা হলো ব্লগার ডট কম হলো গুগলের একটি প্রতিষ্ঠান যার দ্বারা ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।আর ওয়ার্ডপ্রেস হলো মন একটি প্রতিষ্ঠান যার দ্বারাও ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কোন টা ভালো? ভালো খারাপ বিবেচনা করতে গেলে দুটোই সমান



ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস?  কোনটা ভালো?

মনে করেন ব্লগার হলো একটি সরকারী মেডিকেল  আর ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি প্রাইভেট ক্লিনিক। আপনি ব্লগার গুগলের পণ্য হওয়ায় এখানে হোস্টিং সহ অনেক সুযোগ সুবিধা ফ্রী তেই পাবেন বাট ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি ব্লগার এর চেয়েও ভালো সুযোগ সুবিধা পাবেন বাট সম্পুণ পেইড।হোস্টিং ও কিনতে হবে। 

আসলে বিস্তারিত এখানে বলতে গেলে অনেক বেশি কথা হয়ে যাবে।ব্লগার ওয়ার্ডপ্রো সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়ে আরেকটি আর্টিকেল লিখবো ইনশাআল্লাহ 


ডোমেইন কি

আপনার বাড়ির একটি ঠিকানা আছে তাই না? অথবা ধরুণ আপনার দোকানের একটি ঠিকানা আছে। যেটি আর কেউ ব্যাবহার করতে পারবে না, যেমন আপনার দোকানটি আরডিএ মার্কেটের ২ তলার ১১ নাম্বার দোকান। এই ঠিকানা তে কেউ আসলে আপনার দোকানেই আসবে। ঠিক ডোমেইনটা হলো তাই যেমন আমাদের সাইটের ডোমেইন  হলো bbnbangla.com অথবা www.bbnbangla.com এটা আমাদের ঠিকানা। আপনি আপনার ব্রাউজারে যেয়ে যদি এটা লেখেন তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট এই প্রবেশ করবে এটা আর কেউ ব্যাবহার করতে পারবে না। তো এটাকেই ডোমেইন বলে।মাস্টার ডোমেইন অর্থাৎ ডট কম, ডট নেট, ডট ওআরজি,  ডট ইনফো  ( .com .net .org .info .xyz .shop)  ইত্যাদি কে মাস্টার ডোমেইন বলে। এগুলো আপনাকে ডলার দিয়ে কিনতে হবে।অনেক দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এগুলে বিক্রি করে থাকে ভালো কোম্পানির একটা হলো নেমচিপ টা ইনটারন্যাশনাল।এখান থেকে বা যে কোন ডোমেইন কোম্পানি থেকে নিলে বছরে একবার রিনিউ করতে হবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে।


হোস্টিং কি

হোস্টিং হলো আপনার দোকান বা বাড়ির স্পেস বা জায়গা। আপনার বাড়ি যদি হয় দুই তলা তাহলে আপনার বাড়িতে অনেক আসবাবপত্র রাখতে পারবেন আপনার দোকান যদি হয় দুই রুম বিশিষ্ট তাহলে সেখানে অনেক বিক্রয়ের জিনিসপত্র রাখতে পারবেন। ঠিক তেমনি হোস্টিং হলো ওয়েবসাইট এর স্পেস।আপনি যদি এক জিবি হোস্টিং নেন তাহলে আপনার সাইটে এক জিবির বেশি পিক, ফটো ভিডিও বা ডকুমেন্টস রাখতে পারবেন না। কিন্তু যদি আপনার সাইট হয় ১০ জিবি তাহলে অনেক অনেক ভিডিও ইমেজ ডকুমেন্টস রাখতে পারবেন অনায়েসে।অনেক বাললাদেশি ও ইন্টারন্যশনাল হোস্টিং প্রভাইডার রয়েছে যাদের থেকে আপনি বছরের জন্য বা দুই বছরের জন্য বা তারও বেশি সময়ের জন্য হোস্টিং নিতে পারেন তারপরে পরের বছর আবার রিনিউ করে নিতে হবে।ভালো কেম্পানীগুলোর মধ্যে একটি হলো নেমচিপ।সেকান থেকে আপনি দ্রুত গতির হোস্টিং নিতে পারেন।


থীম কি

আপনি যখন দশটি ওয়েবসাইটে ঢুকবেন তখন দশ রকমের ডিজাইন দেখতে পাবেন কেনটায় নিউজ কোনটায় গল্প ইত্যাদি সহজে বলতে গেলে যদি ফেসবুকে ঢুকেন তাহলে কি দেখবেন? প্রথমে ফেসবুকের একটি লোগো

তারপরে নিউজ ফিড তার পাশে গ্রুপ এর অপশন তারপরে ওয়াচ তার পাশে পেজ তার পাশে নোটিফিকেশন আইকোন তার পাশে প্রফাইল ইত্যাদি ঠিক আপনার ওয়েবসাইট ও যদি আপনার নিজের মতো সাজাতে চান তাহলে এমন একটা থীমের প্রয়োজন হবে। থীম শুধু একবারই কিনতে হবে আর দ্বিতীয় বার ডোমেইন হোস্টিং এর মতো রিনিউ করা লাগবে না।এটা হলো থীম এর একটি উপকারীতা


ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে 

ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে গেলে ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি শত শত দেশিও কোম্পানি আপনি দেখতে পাবেন।যারা খুব কম দামে আপনাকে ডোমেইন হোস্টিং দিতে চাইবে।হয়তো হোস্টিং এর সাথে ডোমেইন ফ্রী দিতে চাইবে ,  ৫ জিবি হোস্টিং ৫০০ টাকায় অথবা ১৫০০ টাকায় ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয়ার প্রস্তাব তারা করবে,  এগুলা দেখে কখনোই বিভ্রান্ত হবেন না।  কারণ এত কম দামে দিয়ে তাদের কোন লাভ থাকবে না, তাই ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার আগে দেখে নিবেন তাদের ওয়েবসাইট এর বয়স কতদিন।তার কত বছর ধরে ব্যাবসা করছে অনলাইনে। যদি দেখেন দুই এক বছর বা তিন চার বছর তাহলে নিবেন না।এদের কাজ হলো প্রতারণা।ভালো কোম্পানিগুলোর একটি হলো নেমচিপ, তারা অনেক বছর ধরে ডোমেইন ও হোস্টিং প্রভাইড করে। তাদের থেকে আপনি নিতে পারেন। 


শেষকথা

আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য সব সময় চ্রেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।  আমাদের বাকি পর্বগুলাতে ব্লগিং সম্পর্কে, ওয়েবসাইট বানাতে কেমন খরচ সে সম্পর্কে, ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ আপনাদের কোন প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন আমরা সমাধান করার চ্রেষ্টা করবো।  

নিচে "contract" অপশন এ ক্লিক করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ধন্যবাদ

Post a Comment

أحدث أقدم