স্মার্টফোনের রুট কি? What is root? এন্ড্রয়েড ফোনে রুটের উপকারিতা

মোবাইল রুট কি

 হ্যালো বন্ধুরা,

BBB Bangla'র পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য আজকের ধারাবাহিক টিউনস হচ্ছে কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রুট চালু করবেন।এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন Abdul Aziz Ahmed। পুরোটা পড়ুন,কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ। 


টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছেন আজকের আর্টিকেল টি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ফোন রুট সম্পর্কিত।আমাদের স্মার্টফোন কে রুট করতে চাইলে অবশ্যই জানতে হবে রুট আসলে কি,কেন রুট করা হয় এবং কিভাবে তা করতে হবে?


আজকে আমরা জানতে পারবো-

>>Android Phone Root কি?

>>Phone root করার প্রয়োজনীয়তা

>>Root করার সঠিক ও সহজ পদ্ধতি 


Android phone root করতে হলে প্রথমে জানতে হবে what is root? সহজ কথায় রুট হচ্ছে মূলত Administrator বা প্রশাসক। রুটের মাধ্যমে এমন একটি Permission বা অনুমতি প্রদান করা হয় যার মাধ্যম Android users অনেক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেন। Root চালু করা থাকলে আপনি আপনার স্মার্টফোন দিয়ে যা খুশি তাই করতে পারবেন।লিনাক্স চালিত বিভিন্ন সার্ভারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে গেলে রুট ছাড়া কাজটি সম্পাদন করা অসম্ভব। কিন্তু আপনার ফোনে যদি রুট চালু করা হয়ে থাকে তাহলে আপনি কাজগুলো করতে পারবেন।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন,ফোনের Experiment ও Performance বাড়ানোর জন্য রুটের কোনো বিকল্প নেই।


Linux and Andriod:

অনেকেই হয়তো ভাবতেছেন যে,এন্ড্রয়েড ফোনের আলোচনায় লিনাক্স আসলো কিভাবে?মূলত প্রত্যেকটা এন্ড্রয়েড ফোনের অপারেটিং সিস্টেম Linux cornel এর উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।যারা কম্পিউটার ল্যাপটপ ব্যবহার করে লিনাক্স চালিত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন তারা নিজের মোবাইল ফোনটি তে রুট চালু করলে অবিকল কম্পিউটারের মতো করে ফাইল সিস্টেম দেখতে পাবেন এবং কাজ করতে পারবেন।এটাই হচ্ছে মূলত রুটের আসল বিশেষত্ব।


Root Access:

লিনাক্স ব্যবহার করার সময় Operating System   ইনইস্টল করার পরে আপনার স্মার্টফোনে যে পাসওয়ার্ড টি ব্যবহৃত হবে,সেই পাসওয়ার্ড দিয়েই আপনার ফোনের রুট অ্যাক্সেস করতে পারবেন।


ফোনে কেন রুট চালু থাকে না:

এতক্ষণ লেখাগুলো পড়ে অবশ্যই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে রুট ফোনের ক্ষমতা ও পারফরম্যান্স এত বৃদ্ধি করে অথচ অটো রুট করা অবস্থায় ফোন পাওয়া যায় না কেন?

আসলে যারা স্মার্টফোন তৈরি করেন তারা নিজেরা ইচ্ছে করেই তৈরিকৃত ডিভাইসগুলো লক করে দেন। আমরা জানি রুট ফোল্ডারে থাকা প্রত্যেকটি ফাইল বা ডকুমেন্টস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং কোনোভাবে দুর্ঘটনাক্রমে হলেও যদি এর কোনো ফাইল মুছে যায় তাহলে পুরো ডিভাইসটি অকেজো হয়ে যেতে পারে।এছাড়া আরেক টি বিষয় হচ্ছে ফোন অটো রুট জরা থাকলে বিভিন্ন ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার ডিভাইসটির পুরো অ্যাক্সেস নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু রুটবিহীন কোনো ফোনে এই ঝামেলা টা থাকে না কারণ রুট ছাড়া কোনো ফোন ব্যবহারকারী নিজেই অ্যাকসেস নিতে পারে না সুতরাং সেখানে ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যারের প্রশ্নই আসে না।এই বাড়তি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই মূলত কোনো ফোনে অটো রুট সিস্টেম চালু করা হয় না।


আপনার ডিভাইস কেন রুট করবেন:

এতক্ষণ আমরা জানলাম রুট কি,কেন ডিভাইস অটো রুটেড অবস্থায় থাকে না।এবার জানবো কেন আমাদের ব্যবহৃত ডিভাইস টি রুট করা প্রয়োজন?


বিভিন্ন প্রয়োজনে,বিভিন্ন কারণে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস কে রুট করে থাকেন।কেউ কম্পিউটার-স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর জন্য রুট ব্যবহার করে,আবার কেউ নিজের ডিভাইসের পারফরম্যান্স ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য রুট করার প্রয়োজন বোধ করে কেউ বা নিজের খেয়াল খুশি মতো স্বাধীনভাবে কাজ করার তাগিদে ফোন রুট করে থাকে।পূর্বেই বলে রেখেছি,আমরা প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে লিনাক্স কার্নেলের উপরই দাঁড়িয়ে আছে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। সুতরাং,লিনাক্স ভিত্তিক যেকোনো কাজে পারফরম্যান্স,গতি,কর্মদক্ষতা,শক্তি বাড়ানোর জন্য রুট ব্যবহার করতে হবে।


রুট করার সুবিধা:

পারফরম্যান্সঃ রুট করলে আপনার ফোনের পারফরম্যান্স ও অ্যাক্টিভিটি পাওয়ার অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।পাশাপাশি এটি আপনার ফোনের বিভিন্ন অব্যবহৃত ফাইল,টেম্পোরারি ফাইল ডিলেট করে দিবে ফলে ফোনের গতি বজায় থাকবে।


Overcloking করা: প্রত্যেক ডিভাইস র‍্যামের একটি স্বাভাবিক সিপিইউ গতি থাকে।কিন্তু রুট করা থাকলে যেকোনো প্রয়োজনে আপনার ফোনের সিপিইউ গতি বাড়িয়ে নিতে পারবেন,এটিকে ওভারক্লকিং করা বলা হয়।


Undercloking:

ব্যাটারি ব্যাকবপের জন্য আন্ডারক্লকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন ডিভাইস এমনি পড়ে থাকে তখন CPU যেন অযথা কাজ না করে আন্ডার ক্লকিংয়ের মাধ্যমে সেটি নিশ্চিত করা হয়। এতে করে ফোনের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।


Custom UI:

কাস্টম ইউআই ব্যবহার করে আপনি সহজে আপনার ফোনে নতুনত্ব আনতে পারবেন।এর সাহায্যে Home Screen,Lock Screen,Phone menu তে পরিবর্তন এনে আকর্ষণীয় করা সম্ভব হয়।অনেকে এটাকে রম ও বলে থাকে।

Custom Rom:

কাস্টম হচ্ছে একটি ডিভাইসের ইনস্টল ক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি করে থাকে।অনেক Developers রয়েছেন যারা বিভিন্ন জনপ্রিয় অ্যাপসের জন্য কাষ্টম রম তৈরি করেন।এসব রম ইনস্টল পূর্বক ব্যবহার করে আপনি আপনার ডিভাইস কে একদম নতুন রূপে উপস্থাপন করতে পারবেন। এটা মনে করবেন না যে আপনার ফোনের রং বদলাবে কিংবা র‍্যাম,রম বেড়ে যাবে।ববং কাস্টম রম ব্যবহার করে আপনি আপনার ফোনের আভ্যন্তরীণ আমূল পরিবর্তন করতে পারবেন। 



এতক্ষণ আমরা জানলাম রুট কি এবং কিভাবে আপনার ফোনে রুট চালু করবেন।সর্বশেষ জেনেছি রুট করার প্রয়োজনীয়তা বা উপকারীতা।প্রত্যেক বিষয়ের ভালো ও মন্দ দুটি দিক থাকে।ঠিক তেমনি রুটের সাথেও জড়িত আছে ভালো ও মন্দ দিক।তবে এতে মন্দের চেয়ে ভালো দিক বেশি তাই আমরা এটিকে গ্রহণ করতে পারি।


রুট ব্যবহারের অসুবিধা:

Root ব্যবহারে অনেক সুবিধা পাওয়া গেলেও কিছু অসুবিধা রয়েছে যদিও সেগুলো খুব একটা গুরুতর নয়।তবে বলে রাখা ভালো মনে করছি।


ওয়ারেন্ট হারানো: আমরা প্রথম দিকে পড়ে এসেছি যে,ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রাথমিক অবস্থায় রুট ছাড়া ডিভাইসটি তৈরি করে থাকেন। কিন্তু আপনি যদি ডিভাইসটিকে রুট করে থাকেন,তাহলে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। তবে রুট করা ফোন কে কিন্তু আবার আন রুট করা যায়।এক্ষেত্রে কাষ্টম রম না থাকলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে আপনি আপনার ফোন রুট করেছিলেন।


ফোন ব্রিক করা: আমরা জানি ইংরেজি শব্দ ব্রিকের অর্থ ইট। ফোন ব্রিক করা মানে আপনি আপনার ডিভাইস কে ইটে রূপান্তর করেছেন।কোম্পানি ডিভাইস কে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য আন রুট অবস্থায় তৈরি করেছেন।কিন্তু আপনি রুট করেছেন এর অর্থ দ্বারাই কোম্পানির সেই নিশ্চয়তা ভেঙ্গে দিয়েছেন।সুতরাং নিজের অসাবধানতার কারণে কোনো ছোট বড় সমস্যা হলে কোম্পানি কে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।তাই সাবধান থাকা ভালো।


সর্বশেষঃ

আজকের পোস্টে আমি মূলত আলোচনা করেছি রুট কি,কেন,কিভাবে করবেন এবং এর উপকারীতা ও অপকারীতা। যেহেতু অপকারের চেয়ে এর উপকারিতা বেশি সুতরাং অনেকেই হয়তো চাইবেন নিজের ফোনটি কে রুট করতে।তবে আরেকটি বিষয় ক্লিয়া করছি একেক ফোনের রুট পদ্ধতি একেক রকম অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে রুট অন করতে হয়।এজন্য আপনি ইউটিউবে ফোনের নামসহ সার্চ দিবেন।তাহলে অনেক বাংলা টিউটোরিয়াল পাবেন সেগুলো ফলো করলেই রুট করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।


যাদের বুঝতে অসুবিধা হবে তারা কমেন্টবক্সে যোগাযোগ করতে পারেন।এতক্ষণ আমাদের স্পেশাল টিউনসটি পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।আমরা সব সময় আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। নিয়মিত টেক,টিউনস,টিউটোরিয়াল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন।

Post a Comment

Previous Post Next Post