![]() |
BBN Bangla'র আজকের লেখাটি ওয়েবসাইট যারা চালায় অথবা চালাবে তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা মূলক একটি ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা।আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় ওয়েবসাইটের Bounce Rate বিষয়ক।সেহেতু আমাদের কে জানতে হবে বাউন্স রেট আসলে কি,এর কাজ কি এবং কিভাবে একটি ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বৃদ্ধি পায় এবং এটি কিভাবে আমাদের ওয়েবসাইট বা গুগল এডসেন্সের জন্য খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
শিরোনাম দেখেই হয়তো ভাবতেছেন What's bounce rate?
তাহলে এবার শুরু করা যাক।প্রথমে ই জেনে নেওয়া যাক Bounce Rate কি?
যারা নিয়মিত ওয়েবসাইট এবং গুগল এডসেন্স ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন,পর্যালোচনা করেন, ধারণা রাখেন তারা অবশ্য এ বিষয়ে জেনে থাকবেন।কিন্তু এমন অনেকে আছেন যারা ওয়েবসাইট চালান কিংবা চালাতে ইচ্ছুক অথচ এসব বিষয়ে কোনো পূর্বধারণা নেই তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়লে মোটামুটি একটা ব্যাসিক ধারণা অর্জন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
বাউন্স রেট মূলত একটি শতকরা গাণিতিক অ্যালগরিদম বা হিসাব যা দ্বারা আপনার ওয়েবসাইটের পূর্ণ পরিসংখ্যান সম্পর্কে আপনি অবগত হতে পারবেন।আরো সহজভাবে বলতে গেলে Bounce Rate দ্বারা আপনি দেখতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটে দৈনিক কি পরিমাণ ভিজিটর আসে,কি পরিমাণ ভিজিটর দ্রুত আপনার ওয়েবসাইট ত্যাগ করে আর কি পরিমাণ ভিউয়ার আপনার ওয়েবসাইটে বেশি পরিমাণে সময় দেয়। ধরুন আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট ৫০% প্রদর্শন করাচ্ছে। তাহলে এর অর্থ হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে যে পরিমাণ ভিজিটর আসে তারমধ্যে তাৎক্ষণিক শতকরা ৫০ জন দ্রুত ওয়েবসাইট থেকে চলে যায় আর বাকি ৫০% আপনার ওয়েবসাইটে একটু সময় দিয়ে থাকে।এটা মূলত নির্ভর করবে আপনার ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের বিষয়বস্তুর উপর।
বাউন্স রেট ওয়েবসাইটের জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকরঃ
আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে,আমাদের আজকের টপিকটি অনেকটা ব্যতিক্রমধর্মী। আপাতত দৃষ্টিতে আপনার কাছে মনে হতে পারে বাউন্স রেট বোধ হয় কোনো একটা ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত বিষয়টা সম্পূর্ণ উল্টো।
বাউন্স রেট ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকর এবং নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।কোনো ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কম হলে ভালো এবং বেশি হলে সেটি ওয়েবসাইটের উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে যা আমাদের এবং ওয়েবসাইট দুটোর জন্যেই বেশ ক্ষতিকর। এজন্য আমরা যারা ওয়েবসাইট চালাই অথবা অদূর ভবিষ্যতে চালাতে ইচ্ছুক তাদের কে এ বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে।আমাদের উচিৎ হবে কিভাবে একটি ওয়েবসাইটের Bounce Rate বজায় রাখা যায়।এটা জানার আগে আমাদের কে বুঝতে হবে ঠিক কি সব কারণে কোনো একটি ওয়েবসাইটের রেট বেড়ে যায় তাহলে বজায় রাখার উপায়টাও সহজে বাতলানো যাবে।
বাউন্স রেট বৃদ্ধি পাওয়ার কারণঃ
কোনো ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বৃদ্ধি পাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে।তারমধ্যে অন্যতম তিনটি কারণ হচ্ছে-
১.আপনার কন্টেন্টে আলোচ্য টপিক সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্য দেওয়া না থাকলে।
২.আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন ভালো না হলে।
৩.ওয়েবসাইটে User friendly Interface না থাকলে।
প্রথম বিষয়টা নিশ্চয়ই আপনি অনুধাবন করতে পেরেছেন।আসলে কোনো একটি ওয়েব কন্টেন্টে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি ক্লিয়ার কনসেপ্ট না দেওয়া থাকলে পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয় এবং আপনার ওয়েবসাইটে বেশি সময় ধরে সময় দেয়। এজন্য কন্টেন্ট লেখার সময় আমাদের কে খেয়াল রাখতে হবে যেন লেখা আর্টিকেল টি আদর্শ হয় এবং আলোচ্য বিষয় খুব গম্ভীর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে।মূল বিষয়টা হচ্ছে অতি সংক্ষিপ্ত অবয়বে বিস্তারিত ও সুবিশাল ধারণার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। তাহলে এক দিক থেকে ভিজিটর রা খুব বেশি উপকৃত হয়ে আপনার ওয়েবসাইটের একজন অর্গানিক দর্শক হয়ে উঠবে। এতে এডমিন ও পাঠক দুজনের ই লাভ হবে।
দ্বিতীয় বিষয়টার ধারণা সম্পর্কে মোটামোটি সবার ধারণা আছে। আমরা সবাই জানি ভালো ডিজাইন ছাড়া কখনো একটি ওয়েবসাইট ভালো বা আদর্শ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।আপনার ওয়েবসাইটে ভালো ভালো টপিক নিয়ে পোষ্ট করেও দর্শকদের মন কাড় তে ব্যর্থ হবেন ঢ়দি আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটের ডিজাইন স্বচ্ছ, সুন্দর ও আকর্ষণীয় না হয়।এক্ষেত্রে ভালো ডিজাইন হচ্ছে কোনো একটি আদর্শ ওয়েবসাইটের মূল ভিত্তি।কোনো একটি ওয়েবসাইটের জন্য ভালো মানে ডিজাইন ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যাবে যে ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইটে ভালো মানের ডিজাইন না থাকায় দ্রুত সময়ে ওয়েবসাইট ত্যাগ করে চলে যাবেন এতেও বাউন্স রেটের তারতম্য ঘটবে। এ সমস্যা এড়াতে প্রত্যেক এডমিনের উচিৎ ভালো মানের উন্নত পেইড ডিজাইন ব্যবহার করা।তাহলে আপনার ওয়েবসাইট দেখতে আকর্ষণীয় হবে এবং ভিজিটরদের কাছে অতি অল্প সময়ে খুব দ্রুত ব্যাপকতা ছড়াতে সক্ষম হবে।
আজকে উল্লিখিত যে তিনটি বিশেষ কারণবশত আমাদের বহু কষ্ট,পরিশ্রম,ত্যাগ ও স্বাদের ওয়েবসাইটে বাউন্স রেটে তারতম্যের সৃষ্টি করে তারমধ্যে সর্বশেষ বিষয় টি হচ্ছে ওয়েবসাইট কে ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস হতে হবে। তাছাড়া ওয়েবসাইট টিকবে না।এ সম্পর্কে আপনাকে সচেতন ও আপগ্রেট থাকা চাই।ইউজার ফ্রেন্ডলি করতে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট কে ভিজিটর দের কাছে ইউনিক এবং ডায়নামিক ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন ইনশাআল্লাহ সফল হবেন। সেই সাথে নিয়মিত ভিজিটরদের মতামত কে জানার এবং গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং আপডেট দিন।
এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে বাউন্স রেট কেন আমাদের ওয়েবসাইটের জন্য নেতিবাচক?
আমরা এতক্ষণ জেনে আসলাম বাউন্স রেট আমাদের কাঙ্খিত ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকারক। এটা জানার পরে সবার মনে বার বার ঘুর পাক খাচ্ছে কেন এটি ক্ষতিকর বা নেতিবাচক?
আসলে সবাই স্বাভাবিক ভাবে জানে ভিজিটর হচ্ছে কোনো ওয়েবসাইটের প্রাণ। তো তারা বেশি সময় ধরে ওয়েবসািটে থাকলে কি সমস্যা?এতে তো বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরকম অনেক চিন্তা চেতনা হয়তো মনের ভেতর খেলা করছে। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক আপনার প্রশ্নের উত্তর।
বাউন্স রেট কে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ভালো মনে পারে।কিন্তু বিশ্লেষণী চোখে তাকালে দেখবেন এটা আপনার সাময়িক ধারণার সম্পূর্ণ উল্টো।
আসলে কোনো ওয়েবসাইট অতিরিক্ত বাউন্স পেলে তার এডসেন্স সিস্টেমে কিছু লিমিটেশন তৈরি হয় পাশাপাশি আরো ছোট বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এডসেন্সে লিমিটেশন আরোপিত হলে তো বুঝতেই পারছেন ইনকামে ব্যাঘাত ঘটবে।কাঙ্খিত পরিমাণ অর্থ কামাতে পারবেন না।এজন্য সাময়িকভাবে বাউন্স রেট কে কোনো একটি ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত ৫৫ শতাংশ বাউন্সরেট কে মোটামোটি ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫৫% এর পরে থেকে ৭৫% হলে এটাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আপনার ওয়েবসাইটে বাউন্স রেট যদি আরো বেশি হয় ধরুন ৯৭ শতাংশ তাহলে এটি আপনার গুগল এডসেন্সের জন্য হুমকিদায়ক। আগেই বলেছি অতিরিক্ত রেটের কারণে গুগল এডসেন্সে লিমিট আরোপ করা হয়।এছাড়াও অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তাই এডমিনদের উচিত হবে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ অনুসরণ করে ওয়েবের বাউন্স রেট বজায় রাখা।
ব্লগারদের প্রতি আমাদের সর্বশেষ বার্তা হচ্ছে আপনাকে সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই ওয়েবসাইট প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং তার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
আমরা সকলেই জানি ওয়েবসাইটে আসার মূল উদ্দেশ্য হচৃছে অর্গানিকনভাবে অনলাইন থেকে আয় করা।কোনো কারণে যদি অরৃথ উপার্জনে ব্যঘাত সৃষ্টি হয় তাহলে মোটেও ভালো লাগার কথা নয়।এতে একদিকে আপনার নিজেকে খারাপ লাগবে,হতাশা চেপে ধরবে।।আমাদের কে সই সুযোগ তৈরি হতে দেওয়া যাবে না।দৃঢ় মনোবল নিয়ে আগাতে হবে।ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে যেমন আজকের আলোচ্য বিষয় বাউন্স রেট। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে আপনার পুরো উদ্যমটাই ব্যর্থ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
এজন্য আমাদের কে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে একটি সাধনা,একটি স্বপ্ন। আর একটি সাধনা বা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে উপভোগ করার জন্য চাই অদম্য ইচ্ছাশক্তি,সঠিক কর্ম পরিকল্পনা,পরিকল্পনা বাস্তবায়ন,সেই সাথে পাহাড় সমাম ধৈর্য। তাহলে সফলতা আপনার কাছে ধরা দিবেই।
এতক্ষণ আমাদের ব্লগটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাদের কে ধন্যবাদ। নিয়মিত অনলাইন ইনকাম,বিভিন্ন টেক টিউনস,ওয়েবসাইট প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান,প্রশ্নোত্তর পর্ব পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ-
বিবিএন টিম

Post a Comment