কিভাবে দোয়া করলে কবুল হয়? দোয়া কবুলের শর্ত, আদব ও গুরুত্বপূর্ণ আমল

প্রকাশ:

দোয়া একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধুমাত্র কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার মাধ্যম নয়; বরং বান্দা ও মহান আল্লাহর মাঝে সবচেয়ে গভীর সম্পর্ক তৈরির একটি সেতুবন্ধন। দুনিয়াতে কোনো মানুষ যখন অসহায় হয়ে পড়েন, তখন সে দোয়ার মাধ্যমেই তার সৃষ্টিকর্তার নিকটে ফিরে আসে। আবার একজন মুসলমান তার সুসময়ে, সুখ-সমৃদ্ধির চূড়ান্ত শিকড়ে পৌঁছেও আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে দোয়া করেন।

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, "আমি এত এত দোয়া করি, কিন্তু কবুল হয় না কেন?" এর জবাব পেতে হলে আপনাকে জানতে হবে —দোয়া কবুলের কিছু নিয়ম,আদব, শর্ত ও সময় রয়েছে। পাশাপাশি এক্ষেত্রে মহান আল্লাহর হিকমতের ওপর বিশ্বাস রাখাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।

এই লেখায় কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিস্তারিত বিশ্লেসণ করা হবে যে: একজন কিভাবে দোয়া করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়?

দোয়ার গুরুত্ব:

আল্লাহ তাআলা পবিত্র আল কুরআনে বলেন,

"তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" (সুরা গাফির: ৬০)—অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের কে সাহায্যের জন্য সব সময় তৈরি।

রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

"দোয়াই হলো ইবাদত।" (তিরমিজি)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে এভাবে যে,"আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো জিনিস নেই।" (তিরমিজি)

অর্থাৎ দোয়া কেবল প্রয়োজন পূরণ কিংবা চাওয়া পাওয়ার মাধ্যম হিসাবেই স্বীকৃত নয়; বরং এটি নিজেই একটি মহান ইবাদত হবে স্বীকৃত।

দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কী করতে হবে?

দোয়া করার আগে একজন বিশ্বাসীকে এসব বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

১. একমাত্র আল্লাহর কাছেই দোয়া করা

দোয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রধান শর্তই হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই চাওয়া এবং এ কথার উপর দৃঢ় বিশ্বাস আনা যে তিনি (আল্লাহ) ছাড়া কেউ আমাদের প্রকৃত উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেন না। সূরা আল ফাতিহার ০৪ নম্বর আয়াতে আমরা প্রতিদিন পড়ে থাকি: আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ তায়ালা বলেন,"তোমরা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকেই ডাকো।" মুমিনেরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করবে—শুধু আল্লাহই সবকিছুর মালিক।

২. ইখলাস বা আন্তরিকতা থাকতে হবে

এ কথা মনে রাখা জরুরী যে শুধু মুখে দোয়া করলেই হবে না। অন্তরও আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকতে হবে, অন্তর থেকে চাইতে হবে। দোয়া করার সময় মনে রাখতে হবে—আল্লাহ তায়ালা আমাকে শুনছেন। একমাত্র তিনিই সবকিছু জানেন ও দেখেন। তিনিই আমার সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

৩. পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা

রাসুল (স) বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া করো যে, তোমাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকবে তিনি তা কবুল করবেন।" (তিরমিজি) অবিশ্বাস বা সন্দেহ বা দ্বিধা নিয়ে দোয়া করলে তা আল্লাহর নিকটে দোয়ার আদবের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচ্য হয়।

৪. হালাল উপার্জন করা

হারাম উপার্জন দোয়া কবুল না হওয়ার অন্যতম বড় কারণ ও অন্তরায়। রাসুল (স) এমন একজন ব্যক্তির কথা বর্ণনা করেছেন, যিনি দীর্ঘ সফরে, এলোমেলো-উস্কোখুসকো চুলে, দুই হাত তুলে দোয়া করছেন। কিন্তু তার খাবার, পরিধেয় পোশাক ও উপার্জন হারাম। এরপর তিনি প্রশ্ন তুললেন, "তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?" (সহিহ মুসলিম)

৫. তওবা ও ইস্তিগফার করা

গুনাহ একজন মানুষের দোয়া কবুলের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দোয়ার আগে আমাদের সবাই কে আন্তরিকভাবে তওবা করা উত্তম।এজন্য সব সময় বেশি বেশি করে পড়ুন— আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি।

দোয়ার আদব:

☑দোয়ার অন্যতম আদব হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা দিয়ে শুরু করা এবং দোয়ার শুরুতে আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা করা। 

☑রাসুল (স) এর উপর দোয়া, দরুদ ও সালাম পেশ করা।
☑দোয়ার শুরুতে এবং শেষে দরুদ পড়া উত্তম।যেমন—আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ।
☑কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা। সম্ভব হলে কিবলার দিকে মুখ করে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা উত্তম।
☑দুই হাত তুলে দোয়া করা। রাসুল (স) অধিকাংশ সময় দুই হাত তুলে দোয়া করতেন।
☑দোয়ার আরেকটি আদব হচ্ছে বিনয় ও নম্রতার সাথে দোয়া করা কারণ আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না।
☑দোয়ার সময় কান্নাকাটি করা, বিনয় ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করা এবং গোপনে দোয়া করা। আল্লাহ বলেন, "তোমরা তোমাদের রবকে বিনয়ের সাথে এবং গোপনে ডাকো।" (সুরা আরাফ: ৫৫)
কোন সময় দোয়া বেশি কবুল হয়?

কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন অংশ থেকে দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

১. শেষ রাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ কিয়ামুল লাইলের সময়। এই সময়ে আল্লাহ বান্দাদের দোয়া গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

২. সেজদার সময়।।রাসুল (স) বলেছেন, "বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়ে যায় সেজদায় যাওয়ার মাধ্যমে।"

৩. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে হাদীসে উল্লেখ আছে। আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা হচ্ছে এই সময়ে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

৪. আরেকটি সুন্দর সময় হচ্ছে ফরজ সালাতের পর। ফরজ নামাজের পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা উত্তম কাজ।

৫. জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে যখন মুমিনের দোয়া কবুল হয়।

৬. এছাড়া বৃষ্টির সময়, মুসাফির অবস্থায় সফরের সময় এ রোজাদারের ইফতারের আগে

৭. মজলুমের দোয়া কবুল হয়। মজলুমের দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।


কোন অবস্থায় দোয়া করা উত্তম?

☑অসুস্থ অবস্থায়
☑বিপদের সময় ও সুখের সময়
☑ভ্রমণের সময়
☑পিতা-মাতার জন্য
☑সন্তানদের জন্য
☑মুসলিম উম্মাহর জন্য

যেসব কারণে একজনের দোয়া কবুল নাও হতে পারে:

অনেক সময় বার বার দোয়া করার পরও মানুষ তাৎক্ষণিক ফলাফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। অথচ সহিহ হাদিসে এসেছে, একজন মুসলিমের দোয়া সাধারণত তিনভাবে গ্রহণ হতে পারে—

১. দোয়া করার পরেই আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে কবুল করেন।
২. দোয়ার বিনিময়ে এর বিনিময়ে কোনো বিপদ দূর করে দেন।
৩. অথবা আখিরাতের জন্য প্রার্থনাকারীদের জন্য সওয়াব জমা রাখেন।অতএব, দোয়া কখনোই বৃথা যায় না এবং যাবেও না।

এছাড়া আরও কিছু কারণে দোয়া কবুলে বিলম্ব হতে পারে—

☑হারাম উপার্জন করা
☑আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
☑গুনাহে লিপ্ত থাকা এবং তাড়াহুড়া করা
☑আল্লাহ তায়ালর প্রতি খারাপ ধারণা না রাখা।

দোয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত:

—আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম তথা আসমাউল হুসনা নাম ব্যবহার করে দোয়া করা।

—নিজের গুনাহ অকপটে স্বীকার করা।

—আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

—নিজের জন্য, পরিবার-পরিজন, সমাজ-রাষ্ট্র ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা।

—একই দোয়াকে বারবার গুরুত্ব দিয়ে করা।

—গভীর মনোযোগ সহকারে আন্তরিকতার সাথে দোয়া করা।

—দোয়া শেষে দরুদ পাঠ করা

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া:

হেদায়াতের দোয়া:

রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা'দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রহমাহ।

ক্ষমার দোয়া: 

রাব্বিগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া।

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া:

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান নার।

বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া:

হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল আজিম।

দোয়া করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলতে হবে:

☑হারাম বা অসৎ কোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য দোয়া করা।

☑আত্মীয়তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে দোয়া করা।

☑অন্যায়ভাবে কারও ক্ষতি ও ধ্বংস কামনা করা।

☑তাড়াহুড়া করে বলা, "আমি তো অনেক দোয়া করি, কিন্তু একটাও কবুল হচ্ছে না।"

☑শুধু বিপদের সময়ই আল্লাহকে স্মরণ করা, আর স্বাভাবিক সময়ে বা সুসময়ে দোয়া থেকে উদাসীন থাকা।

☑শুধু মুখস্থ পড়ে দায়সারা দোয়া করা, অথচ অন্তরে কোনো একাগ্রতা ও আন্তরিকতা না থাকা।

☑হারাম আয়-উপার্জন, হারাম খাদ্য খেয়ে দোয়া কবুলের আশা করা।

☑দোয়ার আগে আল্লাহর হামদ, কৃতজ্ঞতা ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর ওপর দোয়া ও দরুদ পাঠ না করা।

☑আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়া কিংবা মনে করা যে, "আমার দোয়া কখনোই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।"

☑দোয়ার সময় অন্তরে সন্দেহ জিমিয়ে রাখা যে আল্লাহ হয়তো এগুলো কবুল করবেন না।

☑দোয়ার সময় মনের অহংকার, গাফিলতি বা লোক প্রদর্শনের মানসিকতা রাখা।

☑গুনাহের ওপর অটল থেকে তাওবা ও ইস্তিগফার না করা।

☑দোয়ার সময়ে অশালীন বা সীমালঙ্ঘনকারী শব্দ ব্যবহার করা।

☑নিজের জন্য দোয়া করে কল্যাণ কামনা করলেও বাবা-মা, পরিবার ও মুসলিম উম্মাহেরর জন্য দোয়া না করা।

☑আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট না থেকে বরং বারবার অভিযোগ করা বা হতাশ হয়ে দোয়া পরিত্যাগ করা!

এসব ভুল থেকে বিরত থেকে আমরা যদি আন্তরিকতা, বিনয়, একাগ্রতা, হালাল উপার্জন, তাওয়াক্কুল এবং দোয়ার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে দোয়া করি তাহলে আল্লাহর রহমতে দোয়া কবুল হওয়ার আশা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।

দোয়া ও ধৈর্য:

রবের নিকটে দোয়া করার পরে ধৈর্য ধারণ করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। অনেক সময় আমরা দোয়া করার সাথে সাথেই তার ফল দেখতে চাই। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কখন, কীভাবে বান্দার দোয়ার জবাব দেবেন, তা একমাত্র তাঁরই অসীম জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে থাকে। তাই আামদের দোয়া কবুল হতে বিলম্ব হলে হতাশ হওয়া বা দোয়া ছেড়ে দেওয়া একেবারে অনুচিত কাজ।

রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, "তোমাদের দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হতে থাকবে, যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে।" সাহাবিরা তখন জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তাড়াহুড়া কী? তিনি জবাবে বললেন, "সে বলে, 'আমি অনেক দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হতে দেখছি না।' অতঃপর সে নিরাশ হয়ে দোয়া করা ছেড়ে দেয়।" (সহিহ আল-বুখারি, হাদিস: ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৩৫)

রাসুলুল্লাহ (স) আরও বলেছেন, "কোনো মুসলিম যখন এমন কোনো দোয়া করে, যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, তখন আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন—হয় ১) তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা ২) এর প্রতিদান আখিরাতের জন্য জমা করে রাখেন, কিংবা ৩) এর সমপরিমাণ কোনো বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করেন।" (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ১১১৩৩; হাদিসটি সহিহ)

অতএব, একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কাছে দোয়া চালিয়ে যাওয়া, তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং এ কথার উপর বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তায়ালা কখনো বান্দার আন্তরিক দোয়া বৃথা যেতে দেন না। তিনি সর্বোত্তম সময়ে এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য কল্যাণের ফয়সালা করে দেন।

উপসংহার:

দোয়া হচ্ছে মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম বা পন্থা। দোয়া কবুলের জন্য অন্তরেরে আন্তরিকতা, হালাল উপায়ে উপার্জন, সার্বক্ষণিক তওবা করা, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এবং সুন্নাহ অনুযায়ী দোয়ার আদব অনুসরণ করা একান্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, কারো দোয়া কখনোই বিফলে যায় না।

আল্লাহ তাআলা অসীম প্রজ্ঞা অনুযায়ী কখনও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বান্দার দোয়া কবুল করেন, কখনও বা কোনো বিপদ দূর করে দেন, আবার কখনও আখিরাতে তার জন্য উত্তম প্রতিদান সংরক্ষণ করে রাখেন।

তাই হতাশ না হয়ে আমরা বারবার আল্লাহর কাছে হাত তুলবো, বিনয়ের সাথে আপনার প্রয়োজন তাঁর তুলে ধরুন এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে—তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দার করা দোয়া শোনেন এবং যথা সময়ে সর্বোত্তমভাবে তার জবাব দেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post