বর্তমান বিশ্বে ওয়েবসাইট শুধু বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নয়;বরং ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, ব্লগার, সাংবাদিক,লেখক,গায়ক, ব্যবসায়ী, সংবাদমাধ্যম, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবি,ফ্রিল্যান্সার—সবার জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সোস্যাল মাধ্যম হয়ে উঠেছে। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্লগ ও নিউজ পোর্টাল, অনলাইন শপ থেকে ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও তৈরি, সরকারি ও বেসরকারি সেবা নিশ্চিত সব কিছুতেই ওয়েবসাইট হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সম্পদ।
অনেকে মনে করেন আজকাল ওয়েবসাইট তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ। কিন্তু বর্তমানে এমনসব সহজ পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং বা কোডিং না জেনেও সুন্দর, আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।
আজকের এই লেখায় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে—ওয়েবসাইট কী এবং কীভাবে কাজ করে, পেশাদার মানের ওয়েবসাইট তৈরির পদ্ধতি, ওয়েবসাইট পাবলিশ করা এবং একটি সফল ওয়েবসাইট পরিচালনার মৌলিক বিষয় ও নীতিমালা।
ওয়েবসাইট কী?
এক কথায় বলতে গেলে, ওয়েবসাইট হচ্ছে ইন্টারনেটে থাকা এক বা একাধিক ওয়েবপেজের সমষ্টি, যেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত, ছবি,ভিডিও, অডিও, ডকুমেন্ট, রিসোর্স বা অনলাইন পরিসেবা থাকে। যেমন—
YouTube হচ্ছে ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট।
Facebook একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
Google একটি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন।
Amazon একটি বিশ্বমানের ই-কমার্স ওয়েবসাইট।
বিশ্বের প্রতিটি ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে, যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম (Domain name) বলা হয়। যেমন—youtube.com
wikipedia.org
google.com
আপনি যেকোনো ব্রাউজারে গিয়ে এই ঠিকানাগুলা লিখলেই নির্দিষ্ট সেই ওয়েবসাইটে চলে যেতে পারেন।
ওয়েবসাইট এবং ওয়েবপেজ কি একই জিনিস?
উত্তর হচ্ছে-না। অনেকেই এই দুইটি বিষয়কে এক ভেবে গুলিয়ে ফেলেন। মূলত ওয়েবসাইট হচ্ছে অনেকগুলো পেজের সমষ্টি। অন্যদিকে ওয়েবপেজ হলো উক্ত ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা মাত্র। অর্থাৎ ওয়েবসাইটে অসংখ্য ওয়েবপেজ বিদ্যমান থাকে।উদাহরণস্বরূপ, একটি ওয়েবসাইটে বিদ্যমান হোমপেজ, জাতীয়,আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি শিরোনামে যেসব মেনু বা সেকশনগুলো চোখে পড়ে সেগুলোই হচ্ছে—আলাদা, আলাদা ওয়েবপেজ।
ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কী কী প্রয়োজন?
সাধারণত, একটি পেশাদার ওয়েবসাইট তৈরির জন্য পাঁচটি জিনিস প্রয়োজন হয়—
☑২. হোস্টিং
☑৪. কনটেন্ট
☑৫. SSL সার্টিফিকেট
বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর জন্য বলি: ধরুন, বাজারে আপনি একটি বইয়ের দোকান খুলতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে—
১. একটি দোকান ২. দোকানের নাম ৩. বইপুস্তক ৪. কর্মচারী এবং ৫. দোকানের সাজসজ্জা।
ঠিক একইভাবে অনলাইনে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য প্রয়োজন হয়—
☑ডোমেইন হচ্ছে (দোকানের নাম)
☑হোস্টিং হচ্ছে (দোকানের জায়গা)
☑ওয়েব ডিজাইন হচ্ছে(দোকানের সাজসজ্জা)
☑কনটেন্ট হচ্ছে (বই বা পণ্য) এবং
☑ব্যবহারকারী (ক্রেতা বা দর্শক)।
এ কারণেই অনেক সময় ওয়েবসাইটকে কেউ কেউ ডিজিটাল দোকান বা অনলাইন অফিস বলেও সম্বোধন করে থাকেন।
ডোমেইন কী? What is domain?
ডোমেইন হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের নাম। যেমন—google.com, wikipedia.org, bbnbangla.com ইত্যাদি। যেভাবে প্রতিটি মানুষের একটি নির্দিষ্ট নাম থাকে, ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি ওয়েবসাইটেরও একটি নাম থাকে যাকে বলে ডোমেইন।
একটি ভালো ডোমেইন কেমন হওয়া উচিত?
একটি ভালো ও আদর্শ ডোমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের কে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে—
২. সহজে উচ্চারণ করা যায় এমন নাম নির্বাচন
৩. খুব সহজে মনে রাখা যায়
৪. বানান জটিল না হওয়া বা ভুল বানান না থাকা
৫. ব্র্যান্ডের সঙ্গে মিল থাকা
৬. নামের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় সংখ্যা বা হাইফেন না থাকা।
এগুলো একটি ডোমেইন কে ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য অনেক বেশি সাহায্য করে থাকে।
হোস্টিং কী? What is hosting?
হোস্টিং হচ্ছে এমন একটি অনলাইন সার্ভার, যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সকল সম্পদ,লেখা ছবি, অডিও, ভিডিও,ডকুমেন্টস ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষিত থাকে। আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে—ডোমেইন হচ্ছে আপনার বাড়ির ঠিকানা এবং হোস্টিং হচ্ছে সেই বাড়ি। ঠিকানা থাকলেও যদি কারো বাড়ি না থাকে, তাহলে সে সেখানে থাকতে পারবে না। একইভাবে ডোমেইন থাকলেও যদি হোস্টিং না থাকে তাহলে ওয়েবসাইট চালানো সম্ভব নয়। এই হোস্টিং বিভিন্ন অনলাইন বিজনেস পোর্টালের কাছে থেকে কিনে নিতে হয়।
DNS কী?
DNS শব্দটির এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Domain Name System। এটির প্রধান কাজ হচ্ছে ডোমেইনের নাম কে সার্ভারের IP Address এর সাথে যুক্ত করা।এই কারণে আমাকে আপনাকে জটিল সংখ্যার IP এড্রেস মুখস্থ বা মনে রাখতে হয় না, শুধু ডোমেইনের নাম লিখলেই সাথে সাথে ওয়েবসাইট চলে আসে।
SSL কী?
SSL শব্দটির পূর্ণরূপ হচ্ছে Secure Sockets Layer যা মূলত একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এটি ওয়েবসাইটগুলো কে HTTP থেকে HTTPS-এ রূপান্তর করে এবং ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর তথ্যকে নিরাপদ রাখার জন্য কাজ করে থাকে। বর্তমান সময়ে SSL ছাড়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করাকে অনিরাপদ হিসাবে গণ্য করা হয়।
আপনি কোন ডোমেইন কিনবেন?
সাধারণত ওয়েবসাইটের নামের শেষে (.) ডটসহ যে অংশটুকু থাকে সেটিই হচ্ছে ডোমেইন এক্সটেনশন। যেমন: bbnbangla.com —এখানে আমাদের ওয়েবসাইট BBN Bangla এর ডোমেইন এক্সটেনশন হচ্ছে .com বা ডট কম।
বর্তমান সময়ে ডোমেইন এক্সটেনশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়-
.org
.net
.info
.edu
.gov
.bd
এগুলো মধ্যে .com হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
.com ডোমেইন প্রথম দিকে মূলত ব্যবসায়িক (Commercial) ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ডোমেইন এক্সটেনশন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ই-কমার্সসহ প্রায় অন্যান্য সব ধরনের ওয়েবসাইটেই এটি ব্যবহৃত হয়।
২) .org (Organization)
.org ডোমেইনটি সাধারণত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, এনজিও সংস্থা, বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের কমিউনিটির ওয়েবসাইটগুলো তে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো এটি নিবন্ধন করতে পারে।
৩) .net (Network)
.net দিয়ে মূলত ইন্টারনেট সেবাকে বুঝানো হয়। শুরুর দিকে নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি চালু করা হয়েছিল এবং বর্তমানে এটিকে বিভিন্ন আইটি কোম্পানি, সফটওয়্যার কোম্পানী এবং অন্যান্য সাধারণ অনেক ওয়েবসাইটেও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।।
৪) .info (Information)
.info হচ্ছে তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট যা জ্ঞানভাণ্ডার, গাইড, কুইজ, রচনা, ইনফোগ্রামিক কনটেন্ট, টিউটোরিয়াল, ডকুমেন্টেশন ও বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ ব্লগ বা পোর্টালের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
.edu শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত একটি অসাধারণ ডোমেইন এক্সটেনশন।পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণত এই ডোমেনটি ব্যবহার করে থাকে। অনেক দেশে এই ডোমেইন নিবন্ধনের জন্য সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
৬) .gov (Government)
.gov ডোমেইনটি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণ কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ধরনের ডোমেইন এক্সটেনশন নিবন্ধন করতে পারে না।
৭) .bd (Bangladesh)
.bd হচ্ছে বাংলাদেশের কান্ট্রি কোড সম্বলিত একটি টপ-লেভেল ডোমেইন (ccTLD)। বাংলাদেশকেন্দ্রিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ও বড় ধরনের ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য এটি ব্যবহৃত করা হয়। এটির অধীনে অধীনে .com.bd, .org.bd, .gov.bd, .edu.bd ইত্যাদি সাবডোমেইনও বিদ্যমান রয়েছে।
এখন আপনার জন্য কোন ডোমেইনটি ভালো ও কার্যকরী হবে? উত্তর হচ্ছে আপনার নির্বাচিত Domain নির্ভর করবে আপনার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে।
সাধারণত ব্যবসায়িক, সংবাদভিত্তিক, ব্লগিং বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের জন্য: .com
প্রযুক্তি বা নেটওয়ার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য: .net
তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট বানানোর জন্য: .info
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো: .edu
সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য হচ্ছে: .gov
বাংলাদেশকেন্দ্রিক পরিচয় তুলে ধরার ই
পরিকল্পনা থাকলে: .bd বা .com.bd
এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
ওয়েবসাইট কীভাবে তৈরি করবেন?
একটি পেশাদার ওয়েবসাইট তৈরির ১০ টি সাধারণ ধাপ নিচে তুলে ধরা হলো—
ধাপ ১: ভাবুন ও পরিকল্পনা করুন।
আপনি প্রথমে ঠিক করুন, কী ধরনের ওয়েবসাইট আপনার দরকার—ব্লগ, নিউজ, ই-কমার্স, নাকি অন্যান্য কর্পোরেট ওয়েবসাইট?
ধাপ ২: সঠিক ডোমেইন নির্বাচন করুন
আপনার ব্র্যান্ডের সঙ্গে মানানসই, ইউনিক, ছোট ও সহজে মনে রাখা যাবে এমন একটি ডোমেইন নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: হোস্টিং কিনুন
রিভিউ দেখে বিশ্বস্ত কোনো কোম্পানি থেকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হোস্টিং নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: CMS ইনস্টল করুন
CMS মানে Content Management System. এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে লগ ইন করে প্রোগ্রামিং না জেনেও আপনি সহজে ওয়েবসাইট তৈরি, পরিচালনা, নিয়মিত আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে WordPress সবচেয়ে ভালো CMS। এছাড়াও Blogger, Joomla, Drupal, Shopify ইত্যাদি সিএমএস ও ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ ৫: থিম নির্বাচন করুন
Responsive, দ্রুত এবং SEO-ফ্রেন্ডলি,মোবাইলবান্ধব একটি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করুন। ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেসে অনেক ফ্রি থিম থাকে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় Plugin ইনস্টল করুন
Cache Plugin
Security Plugin
Backup Plugin ইত্যাদি।
ধাপ ৭: গুরুত্বপূর্ণ পেজ তৈরি করুন
এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হশেছে। গুরুত্বপূর্ণ পেজ যেমন: Home, About Us, Contact, Privacy Policy, Terms & Conditions ইত্যাদি।
ধাপ ৮: মানসম্মত কনটেন্ট প্রকাশ করুন
Google ও ব্যবহারকারীর জন্য দরকারি, মৌলিক ও তথ্যসমৃদ্ধ লেখা প্রকাশ করুন। অন্যের লেখা কপি করা থেকে বিরত থাকুন।
ধাপ ৯: ওয়েবসাইট পরীক্ষা করুন
মোবাইল, ট্যাবলেট ফোন ও কম্পিউটারে আপনার ওয়েবসাইট ঠিকঠাকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখুন।
ধাপ ১০: ওয়েবসাইট প্রকাশ করুন
সবকিছু ঠিক থাকলে ওয়েবসাইটিকে লাইভ (প্রকাশ) করুন এবং Google Search Console-এ সংযুক্ত করুন। ওয়েবসাইট পাবলিশিং ( Website Publishing ) হচ্ছে সঠিকভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেটিকে ইন্টারনেটে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রক্রিয়া।
ওয়েবসাইট সাজানো ও রক্ষণাবেক্ষণ
ওয়েবসাইটের প্রধান অংশগুলো হচ্ছে:
হোমপেজ হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের দৃশ্যমান প্রথম পৃষ্ঠা বা পেজ। ব্যবহারকারী যেকোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই সবার প্রথমে এই পৃষ্ঠাটিই দেখতে পারেন। এই পেজে উক্ত ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আপডেট, সাম্প্রতিক কনটেন্ট, বিভিন্ন বিভাগ-উপবিভাগ এবং প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ দেখা যায়।
About Us পেজে প্রতিটি ওয়েবসাইট তাদের প্রতিষ্ঠান বা লেখক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংযুক্ত করে। যার মাধ্যমে ভিজিটররা জানতে পারেন ওয়েবসাইটটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ইতিহাস এবং কারা এটি পরিচালনা করেন।
৩. Contact Page (যোগাযোগ পেজ)
Contact Page ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ওয়েবসাইটের মালিকের যোগাযোগের মাধ্যম। এখানে সাধারণত ইমেইল, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংক জুড়ে দেওয়া হয়, এসবের মাধ্যেমে ভিজিটররা যেকোনো প্রয়োজনে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।
৪. Services (সেবাসমূহ)
বিভিন্ন সেবামূলক ওয়েবসাইট যেসব সেবা প্রদান করে, তাদের জন্য Services পেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মেনু । এখানে প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সেবা দিয়ে থাকে,সেবার বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, প্রাইজ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ তুলে ধরা হয়।
৫. Blog (ব্লগ)
ব্লগ হলো ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে নিয়মিত আর্টিকেল, টিউটোরিয়াল, সংবাদ এবং বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক লেখা পাবলিশ করা হয়। এটি একটি ওয়েবসাইটে নতুন নতুন কনটেন্ট যোগ করতে এবং SEO improve করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৬. Category (ক্যাটাগরি)
ক্যাটাগরি সাধারণত একটি ওয়েবসাইট কে বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজাতে সাহায্য করে থাকে। যেমন—প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, শিক্ষা,রাজনীতি, জাতীয়। এতে ব্যবহারকারীরা খুব সহজে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় খুঁজে পেতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ক্লিক করেন।
৭. Search Box (সার্চ বক্স)
সার্চ বক্সের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের ভেতরের নির্দিষ্ট কোনো লেখা, পণ্য বা তথ্য বা আর্কাইভ দ্রুত খুঁজে বের করতে পারেন। বড় ও প্রফেশনাল ওয়েবসাইটগুলো তে এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ফিচার।
৮. Header (হেডার)
হেডার হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের উপরের অংশ যেখানে সাধারণত ওয়েবসাইটের লোগো, নাম, নেভিগেশন মেনু, সার্চ আইকন, ডার্ক মোড, লগইন বাটনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অপশন থাকে। এটি কোনো ওয়েবসাইটের পরিচিতি ও নেভিগেশনকে ইউজার ফ্রেন্ডলি করে তুলে।
৯. Footer (ফুটার)
ফুটার হচ্ছে ওয়েবসাইটের সর্বনিম্ন অংশ যেখানে থাকে কপিরাইট তথ্য, Privacy and Policy, Terms & Conditions, Contact, Social Link, About Us, Sitemap ইত্যাদিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া থাকে।
১০. Navigation Menu (নেভিগেশন মেনু)
নেভিগেশন মেনু একজন ব্যবহারকারীকে খুব সহজে একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পেজ বা বিভাগ বা উপবিভাগে দ্রুত যেতে সাহায্য করে। এটি সাধারণত হেডারে অবস্থান করে থাকে এবং ভালোভাবে সাজানো ওয়েবসাইট নেভিগেশন একজন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (User Experience) কে অনেক উন্নত করে।
এভাবেই খুব সহজে একটি প্রফেশনাল লেভেলের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। পরের পর্বে ওয়েবসাইটের খুঁটিনাটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।




Post a Comment