কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা সবাই ঘরে বসে কাজ করার একটা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি।অনলাইনের সাহায্যে দৈনন্দিন রান্নাঘর থেকে শুরু করে অফিস আদালত পর্যন্ত যে কাজ করা যায় কার্যক্রম করা যায় তার সুস্পষ্ট ধারণা সবাই প্রত্যক্ষভাবে পেয়ে গেছে।
সুতরাং এসময় বসে থাকার সুযোগ নেই।অনলাইনের দুনিয়ার বেকার বলতে কিছুই নাই।যার কাছে একটা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ এবং নেটওয়ার্ক কানেকশন রয়েছে সে চাইলেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের,বিভিন্ন প্রান্তের কাজ করে খুব সহজে ভালো পরিমাণ ইনকাম করতে পারবে।এখন সময় নিজের এক্সপেরিমেন্ট কে কাজে লাগিয়ে নিজের ভবিষ্যতকে গুছিয়ে নেওয়া।এজন্য আপনার প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্যের।
যারা অনলাইন থেকে খুব সহজে ইনকাম করতে চান তাদের জন্য BBN Bangla' র আজকের লেখা 'অনলাইন থেকে ইনকামের সহজ ০৫ টি উপায়'।পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনার কাজে আসবে নিশ্চয়ই।
১. ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয়ঃ
অনলাইন থেকে ইনকাম কথাটি শুনলেই ফ্রিল্যান্সিং শব্দটার কথা চলে আসে।অনলাইন থেকে ইনকাম করার সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যাপ্টার হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। সুতরাং নেট দুনিয়ায় কাজ করে ইনকাম করতে হলে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে।ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে আপনি মূলত দুইভাবে কাজ করতে পারবেন।Freelancer,Upwork ইত্যাদি ওয়েবসাইটে আপনাকে ক্লায়েন্টের Project দেখে বিট করে কাজ সংগ্রহ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত Fiverr ও People Per Hour এরকম সাইটে আপনি প্রজেক্ট দেখে বিড করার পাশাপাশি আপনার নিজের পণ্য সার্ভিসের প্রাইজ/মূল্য সেট করে রাখতে পারবেন।আপনার পণ্যের প্রাইস রেট দেখে কোনো ক্লায়েন্ট পছন্দ করলে মেসেজ পাঠাবে বা সরাসরি অর্ডার করবে।অর্ডারকৃত পণ্য যথাযথভাবে ক্লায়েন্টের কাছে ডেলিভারি দিতে পারলে অবশ্যই আপনি ভালো কোনো রিভিউ পাবেন যা আপনার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনি গুগলে কিংবা ইউটিউবে সার্চ দিলে অনেক বাংলা টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন যেগুলো অনুসরণ করলে আপনিও হতে পারবেন একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার।
২. ইউটিউব থেকে আয়ঃ
বর্তমানে অনলাইন থেকে ইনকামের একটা বিরাট বড় প্লাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব যার মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে কোটি টাকা ইনকাম করছে ইউটিউবাররা।
ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে হতে হবে একজন ইউনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।নিত্য নতুন ভিডিও তৈরি করে নিজের চ্যানেলে আপলোড দিতে হবে আর এ থেকেই আপনি ইবকাম করতে পারবেন।ইউটিউব চ্যানেল প্রায় সবার আছে কিন্তু সবাই কি আদৌ ইনকাম করতে পারে?
পারে না কারণ সবাই তো আর নিজে ভিডিও তৈরি করতে পারে না।ইউটিউব থেকে ইনকাম আসবে মূলত গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে। আপনার চ্যানেল যদি গুগল এডসেন্সের আওতায় থাকে তাহলে রিলেটেড সার্চে আপনার ভিডিওগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ছড়িয়ে যাবে এবং বিপুল পরিমাণ ভিউ হবে।ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখতে গেলে নিচে আরো রিলেটেড ভিডিও সাজেস্ট করা হয়,সেগুলো মূলত এডসেন্সের জন্যই সম্ভব হয়।
সুতরাং ইউটিউব থেকে ইনকামের জন্য গুগল এডসেন্সের প্রতি আপনাকে মনোযোগী হতে হবে এবং কনটেন্টগুলো নিজস্ব ও উন্নতমানের হতে হবে,তাহলে আপনিও হতে পারবেন একজন দক্ষ ইউটিউবার!
৩. ব্লগ সাইট থেকে ইনকামঃ
দ্বিতীয় ধাপে আমরা ইউটিউব সম্পর্কে জানলাম।ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের প্রথম শর্ত হচ্ছে ভিডিও তৈরি করা।কিন্তু ভিডিও তৈরিতে আপনি যদি দক্ষ না হোন তাহলে কি করবেন?
ধরুন আপনি লেখালেখি তে দারুন পারদর্শী। তাহলে ব্লগিং সাইট হচ্ছে আপনার জন্য সম্ভবনার দুয়ার।ব্লগ সাইটে লেখালেখি করে ইনকাম করা একদম সহজ একটি কাজ।
এজন্য প্রয়োজন আপনার নিজের একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট খুলে বিভিন্ন আকর্ষণীয় টপিক নিয়ে লেখালেখি করাই হবে আপনার মূল কাজ।
আপনার লেখাগুলো ইন্টারেস্টিং ও ভালেমানের হলে ভিজিটর রা আপনার লেখা পড়ে কিছু শিখতে ও জানতে পারবে।এভাবে ধীরে ধীরে আপনার অডিয়েন্স বাড়তে থাকবে।তারপর আপনি আবেদন করে গুগল এডসেন্স পেলে লাকি!
যখন আপনার লেখাগুলোর চাহিদা বেড়ে যাবে তখন কেউ একটা বিষয়ে সার্চ করলে আপনার সাইটের লেখা সবার প্রথম পেজে চলে আসবে।আপনার সাইটটি যদি গুগল এডসেন্সের আওতায় থাকে তাহলে আপনার লেখার ফাঁকে ফাঁকে অনেক বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে।পাঠকরা আপনার লেখা পড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই আপনার ইনকাম।যত বেশি ক্লিক হবে,আপনার অ্যাকাউন্টে তত বেশি $_ডলার বাড়তে থাকবে।এভাবে আপনি চাইলেই খুব সহজে ভালো পরিমাণ ইনকাম করতে পারবেন।
৪. এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ
এফিলিয়েট মার্কেটিং শব্দটার সাথে সবাই পরিচিত। বর্তমান সময়ে খুব বেশি জনপ্রিয় একটা ইনকাম সোর্সের নাম বলতে বললে অবশ্যই এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কথা বলতেই হবে।
সোজা কথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রমোট করে সেল করে ইনকাম করার পদ্ধতি কে বোঝায়।এফিলিয়েট মার্কেটিং খুব সহজ ও মুক্তপেশা হওয়ায় বিশ্বের কোটি কোটি গ্রাহক ও কর্মী এর সাথে যুক্ত থেকে বাণিজ্য ও ইনকাম করছে।

Post a Comment