বামের পিকটি দেখে হয়তো ভয় পেয়েচেন কিছুটা হলেও, এটা কাল্পনিক কেন বানানো ছবি না,
আজ আমরা একটি ভয়ংকর গল্প থেকে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা জানব, পরিক্ষাটি করেছিলেন রাশিয়ান একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
রাশিয়ার একটি ভয়ংকর গবেষণাঃ
"রাশিয়ান স্লিপিং এক্সপেরিমেন্ট" সম্পর্কে আমাদের সবারই মোটামুটি ধারণা আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একদল রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা চেয়েছিলো কিভাবে সামরিক যোদ্ধা তৈরী করা যায় যারা হবে ঘুমহীন, এবং এর ফলালফল কি হয়েছিলো তাও সবার অজানা নয়, তারা কিছু বন্দীদের বেছে নেয় এ পরিক্ষা চালানোর জন্য এই শর্তে যে ৩০ দিন পরিক্ষার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।যার ফলাফল ছিলো অতি ভয়াবহ, শুকনো খাবার,মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাদের দেয়া হয়, এরপরে গ্যাস প্রয়োগ করতে থাকে বিজ্ঞানীরা।প্রথম চারদিন তারা নির্ঘুম থেকে স্বাভাবিক আচরন করলেও বিপত্তি বাধে তারপরে, তারপরে তারা তাদের অতীতের ঘটনা বলতে থাকে, এভাবে থাকার তিনদিন পর একজন মাইক্রোফোনের সামনে চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না তার কন্ঠনালী নষ্ট হয়ে যায়, এরপরে আস্তে আস্তে তারা চুপ হয়ে যায়, তারা কাগজের টুকরে দিয়ে কাচ,ও ক্যামেরার সামনে লেপ্টে দেন এবং কথা বলা বন্ধ করে দেন।ফলে বিজ্ঞানীদের সাথে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অক্সিজেন গ্যাস চেইক করে বিজ্ঞানীরা দেখেন সব ঠিক আছে।এরপরে কোন ভাবেই তাদের সাথে কথা বলার চ্রেষ্টা করেও কথা বলতে পারেন না, তারপরে তারা সিন্ধান্ত নেন তাদের সাথে দেখা করবেন, তারা স্পেশাল ফোর্স কে ডাকলেন,
স্পেশাল ফোর্স যখন বন্দীদের রুমপ গেলেন তখন ভিতরের অবস্থা দেখে রীতিমত ঘাবড়ে গেলেন
বন্দিরা তাদের নিজের মাংস খাচ্ছিলো, এবং মাংস শরীর থেকে মাংশ খসে পড়ছিলো। তাদের মধ্যে চারজন জীবিত ছিলো তখন তারা গ্যাগ প্রয়োগের জন্য আকুতি মিনতি করছিলো, আর তারা বার বার বলছিলো তারা সেই কক্ষ থেকে বপর হতে চান না।
তাদের কে বের করার সময় তৎক্ষনাৎ দু জন প্রাণ হারিয়ে ফেলেন, আরেকজন গুরুতর আহত হয়।বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করেন তারা তাদেরকে দেয়া খাবারের সামান্যও খায়নি। তারা নিজেদের শরীরের মাংশ নিজেরাই খাচ্ছিলো।
পরবর্তীতে গবেষকেরা জানায় এই গ্যাসে মারাত্বক আসক্তি রয়েছে এবং এতে আবেগ ও সকল প্রকার ব্যাথা রোধ হয়ে যায়, আর শক্তিও বাড়ে বহুগুণে। যার ফলে ওদের শরীরে ব্যাথা চলে যাওয়ায় তারা নিজেদের শরীরের গোস্ত নিজেরাই খেয়েছিলো।
এই ঘটনার পর একজন গবেষক এটা নিয়ে গবেষনা করতে চেয়েছিলো কিন্তু তা করতে দেয়া হয়নি।
এই ঘটনাটিও হয়তো আজও সবার অজানা থাকতো যদি না রাশিয়ার তথ্য গুলো হ্যাক হতো।
ঘুমের প্রয়োজনীয়তাঃ
দর্শক এতক্ষণে হয়তো অনেক আশ্চর্য হয়েছেন, নিশ্চই আপনারা বুঝতে পেরেছেন আমাদের জীবনের জন্য ঘুম কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও পবিত্র কুরআনে ঘুমের কথা বলেছেন
ঘুম মানুষের জীবনের একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া, আচ্ছা আপনাকে যদি বলা হয় ঘুম ছাড়াই কয়েকদিন কাটিয়ে দিতে এবং যার বিনিময়ে আপনাকে মুল্যবান কিছু দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয় তবে কি আপনি পারবেন ঘুম ছাড়া থাকতে? এটা হয়তো আপনার কাছে অত্যান্ত হাস্যকর মনে হবে, কারণ এক দিনের জন্য যদি ঘুম ছাড়া থাকতে বলা হয় তাহলে সেটা কখনই সমৃভব না। শান্তির ধর্ম ইসলামে এ সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে,
ঘুম সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা ও ইসলামের বিধানঃ
রাব্বুল আলামিন সুরা নাবায় বলেন আমি রাত কে তোমাদের বিশ্রামের জন্য বানিয়েছি আবরণস্বরুপ, আর দিন হলো জিবিকা নির্বাহের জন্য,
সহীহ বুখারী শরীফের হাদিসের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় করিম সাঃ এশার নামাজ পরপর ঘুমিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং না ঘুমানোকে অপছন্দ করতেন, আমরা যদি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় না ঘুমাই তাহলে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়বে,
তাই আমাদের উচিত প্রয়োজন মতো ঘুমানো, রাত জেগে লেখাপড়ার চেয়ে সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে পড়াটাই বেশি কার্যকর।

Post a Comment