সেরা কয়েকটি ফটো এডিটর সফটওয়্যার || পিক এডিটর এপস

পিক এডিটর

 ছবি একটা স্বতন্ত্র শিল্প যা আমাদের মনের কথাকে ফুটিয়ে তোলে। সহজভাবে বলতে গেলে ছবি কথা বলে।আজকে আপনার ফোনে তোলা ছবিটা কোনো একদিন আপনার কাছে স্মৃতি হিসেবে ধরা দিবে।

তাই ছবি তুলতে অপছন্দ করে এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। ভ্রমণ,খেলার মাঠ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তোলা একটি কমন এবং নিত্যদিনের ব্যস্ত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমাদের তোলা ছবিগুলো কে আরো বেশি আকর্ষণীয় করার জন্য  ছবি এডিটর অ্যাপসগুলো ব্যবহারের বিকল্প নেই।আজকে আমরা ছবি এডিট করার জন্য সেরা পাঁচটি-Top 5 এডিটিং এপস সম্পর্কে জানবো।


ছবি এডিট করার ৫ টি সেরা অ্যাপসঃ


Snapseed-স্ন্যাপসিডঃ-

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ফটো এডিটরের নাম হচ্ছে  Snapseed. এটি গুগল কর্তৃপক্ষের তৈরি করা একটি উন্নতমানের এডিটিং সফটওয়্যার। 

সুন্দর,দরকারী ও আকর্ষণীয় সব ফিল্টারের জন্য Snapseed খুবই একটি জনপ্রিয় সফটওয়্যার হিসেবে বিবেচ্য। Snapseed সফটওয়্যারটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ টির বেশি ফিল্টার রয়েছে যা খুব সহজেই আপনার স্বপ্নের ছবি কে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও প্রানবন্ত করে তুলতে সাহায্য করবে। এটি আপনার ছবিকে নতুন করে সাজিয়ে নতুনত্ব প্রদান করার পাশাপাশি করে তুলবে অত্যধিক জীবন্ত। জনপ্রিয় এ এডিটিং সফটওয়্যারটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ  ads free. কোনো রকম বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে না বিধায় ছবি এডিটিংয়ে সমস্যা হয় না এবং মনোযোগ দিয়ে এডিটিং করা যায়।প্রফেশনাভাবে ফটো এডিটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

স্ন্যাপসিডের বিশেষ কয়েকটি ফিচার-

>>নির্বাচিত ছবির বিশেষ অংশে ইফেক্ট প্রদানের জন্য রয়েছে Brush Mood

>>Native Dark থীম মোড সমর্থিত অ্যাপস 

>> পাশাপাশি RAW Formet সমর্থিত।



Canva- ক্যানভাঃ

ক্যানভা হচ্ছে একটি উন্নত মানের প্রফেশনাল ফটো এডিটর অ্যাপস।যার কারণে প্রফেশনাল ফটো এডিটররা Canva ব্যবহার করে থাকেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য বহুল ব্যবহৃত অ্যাপটি ফ্রি ল্যান্সারদের জন্য নতুন সম্ভাবনা।Canva এর সাহায্ঢ়ে খুব সহজে Graphics Design করে ফ্রি ল্যান্সাররা টাকা ইনকাম করছে। এতে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন আধুনিক ফিচার।

Canva অ্যাপটি দ্বারা খুব সহজে Youtube thumbnail,Facebook Profile photo,Cover Photo,Banner ইত্যাদি তৈরি করা যায়।তাছাড়া আপনার মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি গুলোকেও আরো বেশি প্রানবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সাহায্য করবে Canva. চমৎকার ফটো এডিটিং অ্যাপস হওয়ার এখন পর্যন্ত গুগল প্লে স্টোর থেকে এটি ডাউনলোড হয়েছে ১০০ মিলিয়ন বারের চেয়েও বেশি।কয়েকটি উন্নতমানের ফিচার-

>>অ্যাপটিতে ফটো কলেজের পাশাপাশি রয়েছে Instagram Story Template এবং Instagram highlight cover.

>>বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় ফটো আপলোড করার জন্য রয়েছে Animated Post টেম্প্লেট।

>>অনলাইন ইনভাইটেশন কার্ড,বার্ড ডে কার্ড,বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য কার্ড বানানোর আলাদা সুযোগ।

>>ভার্চ্যুয়াল ক্লাস রুমে রয়েছে Zoom অ্যাপের জন্য রয়েছে বিশেষ লাইভ Photo background এডিটর।



Photoshop Express-ফটোশপ এক্সপ্রেসঃ

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন থেকে ছবি এডিটিং করার জন্য খুবই জনপ্রিয় আরেকটি সফটওয়্যার হচ্ছে Photoshop Express. নামকরা প্রতিষ্ঠান  adobe এই অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করেছে।সুন্দর সুন্দর টুলস ও ফিল্টার থাকার কারণে এটি আপনার ছবিকে খুব সহজেই আকর্ষণীয় করে তোলে।


Paly store থেকে এ পর্যন্ত ১০০+ million মানুষ এটি ডাউনলোড করেছে।Photoshop Express এটিও বিজ্ঞাপনমুক্ত একটি অ্যাপস হওয়ায় এডিটিংয়ে কোনো রকম ঝামেলা বা বিরক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাই। ফটোশপের উল্লেখযোগ্য টুলস হচ্ছে  Cliping, Rotating,Flipping ইত্যাদি।

কয়েকটি স্পেশাল টুলস-

>>এতে রয়েছে ৮০+ এডিটিং টুলস

>>Respective কারেকশন সমর্থিত অ্যাপস

>>এতে রয়েছে শক্তিশালী Photo Rendering ইঞ্জিন

>>RAW formet সমর্থিত সফটওয়্যার। 



Picsart Sudio-পিক্সার্ট স্টুডিওঃ-

ছবি এডিটিংয়ের জন্য এ পর্যন্ত ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে Picsart অনেক জনপ্রিয় এবং কার্যকরী। অ্যাপটির আলাদা সুবিধা হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করা যায়।একটি ছবি কে আকর্ষণীয় ও প্রানবন্ত করতে যা যা লাগে তার সব কিছুই Picsart এ রয়েছে।শুনে অবাক হবেন যে,প্রায় তিন হাজারের বেশি এডিটিং টুলস রয়েছে এই অ্যাপটিতে। গুগল প্লে স্টোর থেকে এ পর্যন্ত Picsart ডাউনলোড হয়েছে প্রায় এক বিলিয়নের ও বেশি। ছবি এডিটিংয়ের পাশাপাশি ভিডিও এডিটিংয়েও সমান ভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে Picsart Studio. এই সফটওয়্যারটি খুব সহজে আপনার ছবির নতুনত্ব আরো বাড়িয়ে দিবে।তবে  Picsart studio'র free version ব্যবহারে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় তাই একটু বিরক্তিকর বটে,এজন্য ঝামেলামুক্ত ভাবে এডিটিং করতো চাইলে Premium Version ব্যবহার করতে হবে।

স্পেশাল কিছু ফিল্টারঃ

>>ছবির যেকোনো অংশে ইফেক্ট ফেলানোর জন্য হয়েছে Brush mood.

>>সেই সাথে থাকবে Live effect with built in camera সমর্থিত।

>>Artificial Intelligence Effect ফিল্টার বিদ্যমান রয়েছে যা আপনার ছবিকে আরো প্রানবন্ত করে তুলবে।Photo Lab-ফটো ল্যাবঃ-

জনপ্রিয় ফটো এডিটিং সফটওয়্যারের তালিকায় রয়েছে Photo lab নামের আরকেটি জনপ্রিয় অ্যাপস।ফটো ল্যাবের সাহায্যে একটি ছবিতে খুব সহজেই Unique touch দেওয়া সম্ভব। শুধুমাত্র এই অ্যাপসের মধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে প্রায় ৯০০+ ইফেক্ট যেগুলো ব্যবহার করে আপনি কাঙ্ক্ষিত ফটো কে আলাদা আলাদা লুক দিতে পারবেন।

সফটওয়্যারটির স্পেশাল ফিচার হচ্ছে-

>>সফটওয়্যারটিতে রয়েছে ৯০০+ effect 

>>One Touch Photo Edit সমর্থিত অ্যাপস

>>সেই সাথে থাকছে Advance face direction algorithm. 


YouCame Parfect-ইউক্যাম পারফেক্টঃ-

ইউক্যাম পারফেক্ট হচ্ছে একটি জনপ্রিয় এন্ড্রয়েড ফটো এডিটিং সফটওয়্যার যা খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। উন্নতমানের এডিটিং টুলস বা ফিল্টার বিদ্যমান থাকার কারণে অ্যাপসি খুবই জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত। গুগল প্লে স্টোরে এ পর্যন্ত YouCame Parfect ১০০ মিলিয়নেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে।ইউক্যাম পারফেক্ট সফটওয়্যারটিতে সেলফি তোলার জন্য রয়েছে  বিল্ট ইন ক্যামেরা।যার কারণে এটি সেলফি এডিটর নামেও সমধিক পরিচিত। বিল্ট ইন ক্যামেরা দ্বারা সেলফি তোলার পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ড করেও খুব সহজে এডিটিং করা যায়।


একটি ছবিতে মার্জিত,আকর্ষণীয় ও প্রানবন্ত করতে যা যা টুলস দরকার তার সবই রয়েছে অ্যাপসটি তে।যারা সেলফি তুলতে পছন্দ করেন তাদের জন্য ইউক্যাম পারফেক্ট খুব ভালো কাজ দিবে।তাই সেলফিবাজরা উক্ত অ্যাপসটি ব্যবহার করতে পারেন। কয়েকটি স্পেশাল ফিচার-

>>ফটোতে থাকা অপ্রয়োজনীয় অংশ মুছে দেওয়ার জন্য রয়েছে CutOut এবং removal tools

>>একসাথে কয়েকজন ছবি তোলার ক্ষেত্রে রয়েছে মাল্টিপল Face Ditection ফিচার

>>Instant Enhancement সমর্থিত সফটওয়্যার। 



Pixlr:

Pixlr হচ্ছে ছোট খাটো এডিটিং কাজ করার জন্য আরেকটি জনপ্রিয় Editing Software. কোনো রকম অ্যাকাউন্ট খোলা ছাড়াই অনায়াসে যে কেউই এই অ্যাপসি ব্যবহার করে ফটো এডিটিং করতে পারেন।অ্যাপটির প্রত্যেকটা ইন্টারফেস খুব সোজা ও সহজ।গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপসটি এ পর্যন্ত প্রায় ৫০+ মিলিয়নের বেশি সংখ্যক বার ডাউনলোড হয়েছে।অ্যাপটির বিশেষ ফিচার-

>>ফটোতে কালার এডজাস্ট করার জন্য রয়েছে এক ক্লিকের বিশেষ টুলস Auto Fix

>>নির্বাচিত ফটোকে অন্য রকম লুক দেওয়ার জন্য রয়েছে Pencil Sketch,Poster ও Watercolour ব্যাকগ্রাউন্ড। 

>>পাশাপাশি রয়েছে ফটো tone এমপ্লিফাইয়ের বিচেষ ব্যবস্থা। 


PixelLabe:

নিজের ব্যক্তিগত ফটো এডিটিংসহ সোস্যাল সাইটের নানা ধরনের এডিটিং এর জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি অ্যাপস হচ্ছে Pixel Lab.সফটওয়্যার টি দ্বারা উন্নত মানের থাম্বেইল তৈরি করা সম্ভব বিধায় ইউটিউবারদের কাছে অ্যাপটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।ইউটিউবের পাশাপাশি ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামের ফটো সহজে তৈরি করা যায়।

স্পেশাল কয়েকটি ফিচার-

>>ফটোতে 3D Text বসানোর সুবিধা

>>ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার সুবিধা

>>নর্মাল Text এর জন্য রয়েছে Sadow,Stroke,Emboss,Reflection,Mask,Background ইত্যাদি।

Post a Comment

Previous Post Next Post